কমলগঞ্জে ধলাই সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

সিলেট :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-শমশেরনগর-ব্রাহ্মণবাজার ব্যস্ততম সড়কের ২৬ তম কিলোমিটার এলাকায় কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজার সংলগ্ন সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে ধলই নদীর উপর প্রায় ১৪ বছর আগে নির্মিত সেতুটি হঠাৎ করে পূর্ব অংশের সাইড স্লিপার ভেঙ্গে পড়েছে। এই পথ দিয়ে এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ফলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।

২/৩ দিন থেকেই ঝুঁকি নিয়েই যান চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে লাল নিশানা টাঙিয়ে বিপদজনক হিসেবে চিহিুত করলেও এখন পর্যন্ত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এদিকে কয়েক বছরের মধ্যে ব্রীজটি এভাবে ভেঙ্গে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কমলগঞ্জের ধলাই সেতুর পিচ উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানা খন্দ।

শ্রীমঙ্গল-শমশেরনগর-ব্রাহ্মণবাজার সড়কের কমলগঞ্জের ধলাই সেতুটির ১৯৯৮ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালিন যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উপস্থিতিতে তৎকালিন হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ এমপি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

ঢাকার রূপায়ন নামক একটি কোম্পানী ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ধলাই সেতুর নির্মাণ কাজ পায়। রাজনৈতিক কারণে পরে কাজটি সাব কণ্ট্রাক হিসাবে হাতিয়ে নেন আওয়ামী ঘরণার সিলেটের জনৈক ঠিকাদার।

সেতু নির্মাণের কাজের শুরুতেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। নির্মাণ কাজের সিডিউলের নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে সাব ঠিকাদার রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে কাজ করায় কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। এ বিষয়ে তখন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের।

২০০৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তৎকালিন অর্থমন্ত্রী এম, সাইফুর রহমান ধলাই সেতুটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের ৬ বছরের মাথায় গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই সেতুটির পূর্ব অংশের পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হলে রাতের আধারে পাথর গালা দিয়ে তা সংস্কার করে স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বর্তমানে সেই সংস্কারকৃত গর্ত গুলোর পিচ উঠে যাওয়ার পাশাপাশি পাশে আরো ৪-৫টি স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় নতুন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বড় বড় সেতুগুলোর স্থায়ীত্ব ৬৫-৭০ বছর হলেও কমলগঞ্জের ধলাই সেতুটি উদ্বোধনের ৬ বছরের মাথায় একাধিক স্থানে গর্ত সৃষ্টি ও পিচ উঠে গেলেও মাথাব্যথা নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ সোহেল গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

খবরটি পড়া হয়েছে :6বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *