বড়লেখায় বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা

বড়লেখা :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় আত্মহত্যার প্রবণতা দিন দিন বেড়ইে চলছে। গত তিন বছরে পারিবারিক, মানসিক এবং প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৮জন। এরমধ্যে ২০১৮ সালে আত্মহত্যা করেছেন ৯ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ৫ জন এবং নারী ৪ জন। 

থানা-পুলিশের সূত্র মতে, গত ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের করমপুর গ্রামে গলায় ফাঁস দিয়ে কুলছুমা আক্তার (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করে। নিহত কুলছুমা ওই এলাকার আব্দুল করিমের মেয়ে এবং শাহবাজপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। 

২ ডিসেম্বর সকালে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুরে সুদিপ দাস (২৮) নামে গ্রামীণ ব্যাংকের এক মাঠকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সুদিপ দাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বীরপাশা ইউনিয়নের সাতবর্গ (দাসপাড়া) গ্রামের মৃত ফটিক দাসের পুত্র।

৭ অক্টোবর সকালে উপজেলার সুজানগর ইউপির বাবনের চক এলাকা থেকে লনি বেগম (৫২) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মইজ উদ্দিন বলাইর স্ত্রী।

২৯ আগস্ট বিকেলে উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের জিনালপাড়া এলাকায় হারপিক পান করে তামান্না বেগম তারিন (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করে। নিহত তারিন নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের জিনালপাড়া এলাকার আব্দুল মতিনের মেয়ে এবং চান্দগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

২২ জুলাই পৌরশহরের পাখিয়ালা এলাকায় পারভিন বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধা করে পুলিশ। নিহতের পিতৃপক্ষের লোকজন পারভিনকে হত্যার অভিযোগ করলেও স্বামীর বাড়ির লোকজনের দাবি করেন পারভিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ বলেছে, পারিবারিক কলহের কারণে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। 

২ জুন বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাঠালতলিতে বিষপান করে খালেদ আহমদ (২৭) এক যুবক আত্মহত্যা করেন। তিনি উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাঠালতলী গ্রামের এখলাছ উদ্দিনের ছেলে। নিহতের স্বজদের দাবি, খালেদ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

১৯ মার্চ সকালে বড়লেখা পৌরসভার পানিধার এলাকা থেকে রাসেল আহমদ (২০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাসেল পৌরসভার পানিধার এলাকার জহির আলীর ছেলে। নিহতের স্বজনদের দাবি, রাসেল মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। 

১৪ ফ্রেব্রুয়ারি উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পাথারিয়া চা বাগার থেকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মঙ্গল বাউরি (৪৮) নামে এক চা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিবেশি ও স্বজনরা বলছেন, সে মানসিক বিকারগ্রস্থ থাকায় আত্মহত্যা করেছে। 

৮ জানুয়ারি দুপুরে পৌরশহরের আল আমিন আবাসিক হোটেলের এক নম্বর কক্ষ থেকে রেজাউল করিম মোল্লা (৬৫) নামে এক ব্যবসায়ির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রেজাউল করিম মোল্লা পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলায়।

খবরটি পড়া হয়েছে :14বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *