২৮ বছর পর অর্থ মন্ত্রণালয় হারালো সিলেট

গত ২৮ বছর ধরে সকল সরকারের আমলেই অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন ‘সিলেটী’রা। দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করায় অন্ত্রমন্ত্রনালয় মানেই সিলেট- এমন ধারণাও তৈরি হয়েছিলো রাজনীতিতে। তবে ২৮ বছর পর এবার এর ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে। 

সোমবার শপথ নিতে যাওয়া মন্ত্রীপরিষদে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত সাংসদ আ হ ম মোস্তফা কামাল। ফলে সিলেট থেকে কুমিল্লায় যাচ্ছে অর্থমন্ত্রণালয়।

বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুৃল মুহিত অবসরের ঘোষণা দেওয়ায় আওয়ামী লীগ জিতলে কে হচ্ছেন নতুন অর্থমন্ত্রী তা নিয়ে নির্বাচনের আগে থেকেই আলোচনা ছিলো। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় ছিলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বৃহত্তর সিলেটের সন্তান ফরাসউদ্দিন আহমদের নাম। তবে তিনি এবার দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানও অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা ছিলো।  তবে রোববার মন্ত্রীপরিষদ থেকে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রণালয় পাচ্ছেন মোস্তফা কামাল আর মান্নান হচ্ছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।

মুহিতের বদলে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়া তাঁর ভাই একে আব্দুল মোমেনও অর্থমন্ত্রনায়লের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করেছিলেন তাঁর অনুসারীরা। মোমেন মন্ত্রীসভায় ডাক পেলেও পাচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

১৯৮০ সালে প্রথম অর্থমন্ত্রী পায় সিলেট। জিয়াউর রহমান সরকারের অর্থমন্ত্রী হন এম সাইফুর রহমান। দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন সাইফুর। এরপর ৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আরেক ‘সিলেটি’ আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মাঝখানে কিছুটা বিরতির পর ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা অর্থমন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিন সিলেটি। বাঝখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল বাদ দিয়ে সব নির্বাচিত সরকারের আমলে অর্থের ভান্ডার সামলান এম. সাইফুর রহমান, শাহ এএমএস কিবরিয়া ও আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরমধ্যে সাইফুর রহমান ও এএমএ মুহিত সংসদে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট পেশের রেকর্ডেরও অধিকারী। আর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের প্রথম মেয়াদে অর্থমন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত শাহ এএমএস কিবরিয়া। ২০০৮ সাল থেকে টানা ১০ বছর ধরে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন মুহিত।

খবরটি পড়া হয়েছে :22বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *