সিলেটে ‘নীরবে’ চলে গেলো ছাত্রদল-ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগের এবছরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সিলেটে যেনো অনেকটা নীরবেই চলে গেলো। ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দুটি ছাত্র-সংগঠন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকি পালন করেছে নীরবেই। বিগত বছরগুলোতে ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সরগরম থাকতো সিলেট। মিছিল, শোডাউন, শোভাযাত্রা আর স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হতো সিলেটের রাজপথ। কিন্তু এবারে সেই আনন্দে ভাটা পড়েছে।

১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা হয় উপমহাদেশের বৃহৎ ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা  পালন করে আসছে। সংগঠনটির শক্তিশালী কয়েকটি ইউনিটের মধ্যে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদল একটি। এবারের ১ জানুয়ারি তাদের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল। কিন্তু এ নিয়ে সিলেটজুড়ে ছাত্রদলের তেমন তোড়জোড় দেখা যায়নি। 

শুধু সিলেট নয় সারাদেশের ছাত্রদলের অবস্থাই যেনো এমন। বিভিন্ন মামলা-গ্রেফতারের দখল কাটিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদে (৩০ ডিসেম্বর) ভোট বিপ্লব ঘটিয়ে আবারো ক্ষমতায় আসবে তাদের মূল সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)- এমনটিই আশা করেছিলো ছাত্রদল। তবে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ। আর তাই নির্বাচনের ১ দিন পর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেটসহ সারাদেশে নেই তেমন কোন আয়োজন।

তবে নেতাকর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা। সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী আহসান সিলেটভিউকে জানান,  এই নির্বাচন ছিলো প্রহসনের নির্বাচন। বর্তমান সরকার প্রশাসনের সহযোগিতায় জাতিকে নির্বাচনের নামে ধোকা দিয়েছে। নির্বাচনে ভিন্ন উপায়ে জিততে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে জেলে ভরে রাখা হয়েছে। নেতাকর্মীরা এখনো ঘর-বাড়ী ছাড়া।  শীঘ্রই সিলেটসহ সারা বাংলাদেশের ছাত্রদল এক হয়ে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে বলে জানান তিনি। 

এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যতোটা না বিধ্বস্ত ছাত্রদল, ঠিক ততোটাই উচ্ছ্বসিত ছাত্রলীগ। সারাদেশে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিতে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্দেশে ছিলো মাঠে। সিলেট জেলা কিংবা মহানগরের ছাত্রলীগের কমিটি না থাকলেও সিলেটের প্রতিটি আসনে করা হয় ছাত্রলীগের নির্বাচনকালীন সমন্বয় কমিটি। তাদের মাঠের পরিশ্রমে ফলও আসে। সিলেটের ১৯টি আসনের ১৭টিতে জয়ী হন নৌকা মার্কার প্রার্থীরা। 

সিলেটসহ সারাদেশে তাই এবার মহাধুমধামে ছাত্রলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর (৪ জানুয়ারি) পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো ছাত্রলীগ। সে অনুযায়ী দেওয়া হয়েছিলো কেন্দ্রীয় নির্দেশনা। তবে, ৩ জানুয়ারি রাতে খবর আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেছেন। এই খবরে আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। বাতিল করা হয় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রায় সকল কার্যক্রম। আর তাই সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও পালিত হয়নি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উৎসব। 

তবে, সিলেট ছাত্রলীগের বর্তমানে জেলা কিংবা মহানগরের কমিটি না থাকায় দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রমে ছাত্রলীগের উপস্থিতি তেমন সরব নয় বলে মনে করছেন ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টরা। পদ-প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা চান যতো দ্রুত সম্ভব কমিটি ঘোষণা দেওয়া হোক সিলেটেই। তবেই, চাঙা হবে সিলেট ছাত্রলীগ।

মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হওয়ায় প্রতিবার এই দিনগুলোতে সিলেটের রাজপথ থাকে সরগরম। কিন্তু ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সিলেটে এবারে ছাত্রদল কিংবা ছাত্রলীগে অনেকটা নীরবেই চলে গেলো সেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উৎসব।

খবরটি পড়া হয়েছে :15বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *