আওয়ামী লীগে অস্বস্তি, বিএনপিতে হতাশা

নির্বাচন শেষে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে সিলেটের রাজনীতিতে। মাঠে কোনো কর্মসূচি নেই রাজনৈতিক দলগুলোর। ঘরোয়া কর্মসূচিও নেই কোনো দলের।

নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত জয় আর নির্বাচনকে ঘিরে নানা প্রশ্নের কারণে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে রয়েছে অস্বস্তি। প্রকাশ্যে তারা এ ব্যাপারে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে অস্বস্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা। অপরদিকে এমন পরাজয়ের পর হতাশা বিরাজ করছে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। তার ওপর বিভিন্ন মামলায় বিপর্যস্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা।

অথচ কিছুদিন আগেও সিলেটের রাজনীতির মাঠ ছিলো সরগরম। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সত্ত্বেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণায় মাঠে সরব ছিলো প্রধান সব রাজনৈতিক দলই। তবে নির্বাচন শেষ হতেই পাল্টে গেছে পরিবেশ। সরব রাজনীতির মাঠ এখন একেবারেই ফাঁকা।

নির্বাচনী প্রচারণায় সময়ই একের পর এক মামলা করা হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। নির্বাচন শেষ হলেও রয়ে গেছে সেই মামলাগুলো। এসব মামলায় আসামী করা হয় সিলেটে বিএনপির হাজারখানেক নেতাকর্মীকে। ফলে এখনও আত্মগোপনে রয়েছে সিলেটের বেশিরভাগ বিএনপি নেতাকর্মী। অনেককে দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে আদালতে।

মামলার ঘানি নেই। তার ওপর ভূমিধ্বস বিজয়। তবে সিলেটে আওয়ামী লীগেরও নেই কোনো কার্যক্রম। ৪ জানুয়ারি ছিলো ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি স্থগিত করে মিলাদ মাহফিল করার নির্দেশনা দিয়েছিলো কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তবে বিচ্ছিন্নভাবে ছাত্রলীগের দু’একটি অংশ শুক্রবার মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করলেও ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। বিচ্ছিন্ন কর্মসূচিগুলোতেও উপস্থিত ছিলেন না জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

নির্বাচনে বিজয়ের পর এখন পর্যন্ত কোনো মূল্যায়ন সভা বা কর্মী সভারও আয়োজন করেনি সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। বরং শীর্ষ নেতাদের বেশিরভাগই এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। আর অপ্রত্যাশিত রকমের বিশাল বিজয়ে মধ্যমসারির নেতাদের মধ্যে রয়েছে অস্বস্তি।

সিলেটে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যমসারির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় প্রত্যাশিত ছিলো। তবে এতো বিপুল বিজয় ছিলো একেবারে অপ্রত্যাশিত। এমন বিজয়ের কারণে এই নির্বাচন নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছে। ফলে নেতাদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। প্রায় বিব্রতকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

অপরদিকে বিশাল ভরাডুবির কারণে বিএনপিতে দেখা দিয়েছে হতাশা। শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও এই হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন কোনো কর্মসূচি দিতেও দ্বিধায় দলটির নেতারা। সকলেই তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় নির্দেশনার দিকে।

হতাশার পাশাপাশি একের পর এক মামলায়ও বিধ্বস্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা। মামলার কারণে সংঘবদ্ধ হতে পারছেন না দলটির নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি দেওয়ার বদলে আইনি লড়াইয়েই এখন ব্যস্ত সিলেট বিএনপি। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এখনও কারাগারে আছেন। কেউ কেউ আছেন আত্মগোপনে। এসব নেতাকর্মীদের কেউ কারাগার থেকে জামিনের চেষ্টা করছেন আবার কেউ পালিয়ে থেকেও আগাম জামিনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

নির্বাচন পরবর্তী রাজনীতি নিয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, এখন দেশে একটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এবারের নির্বাচন ছিলো দুটি পক্ষের মধ্যে। একটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি আর একটি মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি। এ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির বিজয় হয়েছে আর মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির পরাজয় হয়েছে। তাই সবাই এখন ঢাকার দিকে তাকিয়ে। ৩ তারিখ সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন এখন মন্ত্রীপরিষদ গঠন হবে। মন্ত্রীপরিষদে সিলেটের কে কে স্থান পাচ্ছেন সে দিকেই তাকিয়ে আছে সকলে। এর পরই রাজনীতি সরব হবে বলেও জানান তিনি।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ৩০ তারিখ ছিলো নির্বাচনের নামে প্রহসনের দিন। ওইদিন সরকার নীল নকশা তৈরি করে পুলিশের সহায়তায় জয়ী হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে আসন ভাগ বাটোয়ারা হয়েছে।

নির্বাচন পরবর্তী নীরবতা নিয়ে জেলা বিএনপির এ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সিলেট জেলায় ইতোমধ্যে ভোট পরবর্তী ৬০টির অধিক মামলা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতে অনেক নেতাকর্মী নির্বাচনের আগে থেকে এখনো কারাগারে আছেন। এছাড়াও নতুন এসব মামলায় নেতাকর্মীদের ফাঁসানো হচ্ছে। তবুও সিলেট বিএনপি দুর্বল নয়, কেন্দ্রের নির্দেশের অপেক্ষায় আছে সিলেট বিএনপি। কেন্দ্রের নির্দেশনা পেলেই যে কোন আন্দোলনের জন্য সিলেট বিএনপি প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্নের বিষয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল বলেন, অভিযোগ দেয়া বিএনপির স্বভাব। এর আগেও সকল নির্বাচনে এবং সকল ভালো কাজে বিএনপি তারা নানা অভিযোগ তুলেছে। তাদের অভিযোগ এখন সাধারণ জনগণ বুঝে গেছে। ভোটের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্যবেক্ষকরা যে মন্তব্য করেছে তাতে বিএনপির অভিযোগ ধর্তব্য বলে মনে হচ্ছে না। তবে তারা যে অনিয়মের অভিযোগ তুলছে এর কোন সঠিক প্রমাণ থাকলে প্রমাণাদি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করলে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিবে বলে জানান তিনি।

সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, নেতাকর্মীদের উপর বিভিন্ন মামলা থাকার কারণে নেতাকর্মীরা অনেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন একই সাথে কেন্দ্রের নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। কেন্দ্রের নির্দেশ ছাড়া এই মুহূর্তে কোন কর্মসূচি দেয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

খবরটি পড়া হয়েছে :4বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *