ভোটের সংঘাতে নিহত অধিকাংশই আওয়ামী লীগের

বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা আর সংঘাতের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ১৩ জেলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে আটজনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক।

রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯ আসনে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে।

চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ কয়েকটি স্থানে কেন্দ্র দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে আগের রাতেই সংঘাত শুরু হয়।

বিকালে ভোট শেষ হওয়া চট্টগ্রামে তিনজন, রাজশাহীতে দুজন, কুমিল্লায় দুজন এবং কক্সবাজার, বগুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, রাঙামাটি, সিলেট, যশোর, লালমনিরহাট, নাটোর ও গাজীপুরে একজন করে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অবশ্য বিগত নির্বাচনগুলোর সঙ্গে তুলনা করে এবারের জাতীয় নির্বাচনকে ‘সংঘাতহীন’ বলতে চাইছে আওয়ামী লীগ।

ভোটের দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বাংলাদেশের গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে, আমি বলতে পারি, এবারের নির্বাচন সংঘাতহীন হয়েছে। কিছু জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও তা অত্যন্ত নগণ্য।

চট্টগ্রাম: ভোট শুরুর আগে শনিবার রাতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিএনপিকর্মীদের হামলায় এক যুবলীগ কর্মীর নিহত হওয়ার খবর দেয় পুলিশ। ভোটের আগের রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বরইতলী এলাকায় একটি কেন্দ্র দখলের চেষ্টায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাঁধলে জাতীয় পার্টির এক কর্মী গুলিতে নিহত হন।

পটিয়া উপজেলায় অন্য ঘটনাটি ঘটে সকাল সোয়া ১০টার দিকে পশ্চিম মালিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাদলে আবু সাদেক নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি বিএনপি সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

রাজশাহী: রোববার ভোট চলাকালে রাজশাহীর মোহনপুর ও তানোরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। 

কুমিল্লা: কুমিল্লা-৭ আসনে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন এলডিপিকর্মী, অন্যজন বিএনপিকর্মী।

বগুড়া: বগুড়ায় কাহালু উপজেলায় একটি ভোট কেন্দ্রের সামনে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি: রাঙামাটির কাউখালি উপজেলায় বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।

নোয়াখালী: কেন্দ্র দখলে বাধা দেওয়ায় নোয়াখালী-৩ আসনে বেগমগঞ্জের এক কেন্দ্রে এক আনসার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর) আসনের ভোটকেন্দ্রে গুলিতে এক কিশোর নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরও তিনজন।

কক্সবাজার: কক্সবাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে এক যুবলীগকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন।

গাজীপুর: গাজীপুর মহনগরীর হাড়িনাল উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের সামনে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

সিলেট: সিলেটের বালাগঞ্জের একটি ভোট কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টার মধ্যে গণ্ডগোলে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন।

যশোর: যশোরের অভয়নগরে ধানের শীষের এক এজেন্টকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ায় নিহত হয়েছেন এক বিএনপি নেতা।

নাটোর: ‘ভোটের ঝগড়ায়’ ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা নিহত। ‘ভোট দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে’ নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ছুরিকাঘাতে চাচাকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজার বিরুদ্ধে। নিহত হোসেন আলী (৫৫) সমসখলসী গ্রামের ওয়ায়েস উদ্দিনের ছেলে ও আওয়ামী লীগের কর্মী

খবরটি পড়া হয়েছে :11বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *