বিভাগের ১৯ আসনের ৬৪ ভাগ কেন্দ্রই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’

সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে এবার ২ হাজার ৮০৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোট গ্রহণের জন্য এসব কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত করছে নির্বাচন কমিশন। তবে এসব কেন্দ্রের ৬৪ ভাগই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ৮ ভাগ ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’। 

সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্র সবগুলোই মৌলভীবাজার জেলায়। এর সংখ্যা ২১২টি।
তবে কেন্দ্রগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ বলতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। তাদের ভাষায় এসব কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান।

সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন বলেন, মফস্বলের সাধারণ সকল কেন্দ্রে ১৪ জন, পৌর এলাকায় সাধারনে ১৫, নগরীর সাধারন কেন্দ্রে ১৬ জন করে পুলিশ থাকবে। এছাড়াও সকল গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১ জন করে ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২ জন করে বাড়তি পুলিশ মোতায়ন করা হবে।

ইসরাইল হোসেন বলেন, নির্বাচনী এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সমন্বয়ে গঠিত রিজার্ভ ফোর্স, কেন্দ্রভিত্তিক মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিরাপত্তায় থাকবে।

নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, প্রার্থীর পক্ষে কোনো গোষ্ঠী অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাতে পারে, ভোট কেন্দ্রের পাশে প্রার্থী বা তার নিকটাত্মীয়ের বাড়ি রয়েছে এমন সব কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থান, এলাকার রাজনৈতিক অবস্থা ও ভোট কেন্দ্রের স্থাপনাকেও এ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বেশি থাকবে।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগে বলা হতো ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এখন বলা হয় গুরুত্বপূর্ণ, অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশেষণ পাল্টালেও অবস্থা তো পাল্টাচ্ছে না। বরং ঝুঁকিপূর্ণ না বলে প্রকৃত অবস্থাকেই আড়াল করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যে ভাবেই অভিহিত করা হোক, এসব কেন্দ্র নিরাপদ করতে যেনো কোনো গাফিলতি করা না হয়। জনগন যেনো নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সিলেটের কার্যালয় সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯ আসনে ৬৬ লাখ ২২ হাজার ৫৬৫ জন ভোটার রয়েছেন। তারা ২ হাজার ৮০৫টি ভোট কেন্দ্রে ১৩ হাজার ৪৯৬ ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় এসব কেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ২১টি কেন্দ্র সাধারণ, ১ হাজার ৫৭২টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও মৌলভীবাজার জেলার ২১২টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ হিসাবে মোট ভোট কেন্দ্রের ৫৬ দশমিক শূন্য ৪ ভাগ ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ৭ দশমিক ৫৬ ভাগ ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্র। বাকি ৩৬ দশমিক ৪০ ভাগ সাধারণ ভোট কেন্দ্র। সিলেট জেলার ৬ আসনে ২২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬৪ ভোটার রয়েছেন। তাদের জন্য ৯৯২টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮৫টি কেন্দ্র সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ ৬০৭টি কেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটকক্ষ ৪ হাজার ৭৫৪টি। সুনামগঞ্জে ৫ আসনে ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫৬৬ ভোটার রয়েছেন। তাদের জন্য ৬৬৮টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫১টি কেন্দ্র সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ ৪১৭টি কেন্দ্র রয়েছে। ভোটকক্ষ ৩ হাজার ২৯১টি। 

মৌলভীবাজারে ৪ আসনে ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭১ ভোটার রয়েছেন। ৫১২টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৪টি সাধারণ, গুরুত্বপূর্র্ণ ১২৬টি ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ২১২টি কেন্দ্র। এ জেলায় মোট ভোটকক্ষ ২ হাজার ৬০১টি। হবিগঞ্জে ৪ আসনে ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৫৬৪ ভোটার রয়েছেন। ৬৩৩টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১১টি সাধারণ ও গুরুত্বপূর্র্ণ ৪২২টি। হবিগঞ্জে মোট ভোটকক্ষ ২ হাজার ৮৫০টি।

খবরটি পড়া হয়েছে :12বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *