ভোটের হার কমছেই

প্রথমবার দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। এপর্যন্ত চার ধাপে অনুষ্ঠিত ৪৫৮ উপজেলার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৩১৮ জন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন ১৩৬ জন। তবে এদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে ১০৭টি উপজেলার চেয়ারম্যান বিনা ভোটে জয় পেয়েছেন। এরা সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের।

এর বাইরে জাতীয় পার্টি তিনটি এবং জাতীয় পার্টি-জেপি একটি উপজেলায় জয় পেয়েছে। দলীয় নিবন্ধন না থাকায় দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে রাঙামাটিতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-এমএন লারমা) প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করেন। এই জেলার জুরাছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়ি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জেএসএসের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়িতে চেয়ারম্যান পদে জিতেছেন জেএসএস-এমএন লারমার প্রার্থীরা।

এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চার ধাপে উপজেলা নির্বাচনের মধ্যে রোববার চতুর্থ ধাপে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে। ভোটের এ হার ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ ধাপে এক কোটি ৬৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮১ ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ৬০ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৫টি।

এর আগে তৃতীয় ধাপে ৪১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৪১ দশমিক ২৫ এবং প্রথম ধাপে ৪৩.৩২ ভাগ পড়েছে। তবে এবার বিনা ভোটে রেকর্ডসংখ্যক ৫২ জন ভাইস চেয়ারম্যান ও ৫৯ জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতানেত্রী।

জানা গেছে, ৪ দফা ভোটে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত ১৩৬ চেয়ারম্যানের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। বিজয়ী ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদেরও অধিকাংশই আওয়ামী লীগের।

দৃশ্যত উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগেরই জয়জয়কার। বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ভোট বর্জন করায় সব ধাপেই ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। ৪ ধাপে ভোট পড়েছে ৪০ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

সর্বশেষ চতুর্থ ধাপে ভোটের হার ছিল ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। ভোটার উপস্থিতি কম নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের বক্তব্য হচ্ছে- বিএনপিসহ বেশির ভাগ দল অংশ না নেয়ায় নির্বাচন জৌলুস হারিয়েছে। ফলে ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইসির কোনো দায় নেই বলে দাবি করেন তারা।

সর্বশেষ রোববার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ভোটে জনগণের যে অনীহা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে জাতি এক গভীর খাদের কিনারের দিকে অগ্রসরমান। আমরা গণতন্ত্রের শোকযাত্রায় শামিল হতে চাই না। রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিকদের ভেবে দেখা দরকার।

পঞ্চম ধাপের ভোট ঈদের পর হবে, তবে এখনও তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। ৪ ধাপে ৪৬৫টি উপজেলায় তফসিল ঘোষণা করা হলেও ১৭টি উপজেলার ভোট স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে উচ্চ আদালতের রায়ে ১০টি ও অনুকূল পরিবেশ না থাকায় ইসি সাতটি উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করে।

৪১৯টি উপজেলায় নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হলেও কিছু উপজেলায় নানা কারণে ফল প্রকাশ করা হয়নি। এবারই প্রথম ১০টি উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হয়েছে। ভোটের তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহে কয়েকটি কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ট্যাব ব্যবহার করা হয়েছে।

চতুর্থ ধাপে আওয়ামী লীগ ৭৩, তৃতীয় ধাপে ৮১, দ্বিতীয় ধাপে ৭৪ ও প্রথম ধাপে ৫৬টিতে জয় পেয়েছে। প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল জয় পায়নি। দ্বিতীয় ধাপে দুটি ও তৃতীয় ধাপে একটিতে জয় পায় জাতীয় পার্টি। আর চতুর্থ ধাপে জেপি একটিতে জয় পেয়েছে।

চতুর্থ ধাপ : ৩১ মার্চের ভোটে ৭৩ উপজেলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের। এর মধ্যে ৪৯ জন নির্বাচনের মাধ্যমে এবং ২৪ জন বিনা ভোটে জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৩২টিতে। একটিতে জেপি প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

তৃতীয় ধাপ : ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে চেয়ারম্যান পদে ৮১টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ৩১ জন বিনা ভোটে এবং ৫০ জন প্রতিযোগিতা করে জয় পেয়েছেন। এ ছাড়া ৩৮ জন স্বতন্ত্র এবং জাতীয় পার্টির একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ ধাপে আওয়ামী লীগ, স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য দল জয় পায়নি।

দ্বিতীয় ধাপ : ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ১১৪টি উপজেলায় ঘোষিত ফলের মধ্যে ৭৪টিতে আওয়ামী লীগ, ৩৮টিতে স্বতন্ত্র ও দুটিতে জাতীয় পার্টির নেতারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের ৭৪ জনের মধ্যে ৫১ জন ভোটের লড়াইয়ে এবং ২৩ জন বিনা ভোটে জয় পান।

প্রথম ধাপ : ১০ মার্চ প্রথম ধাপে ৭৯টি উপজেলার মধ্যে ৫৬টিতে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। বিজয়ী ২৩ জন ছিলেন স্বতন্ত্র। আওয়ামী লীগের ৪২ জন ভোটে লড়াই করে এবং ১৪ জন বিনা ভোটে জয়ী হন।

ভোটের হার : নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে ৩০ জনের বেশি এমপিকে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেয়া হয়েছে ব্যবস্থা। সর্বশেষ চতুর্থ ধাপে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে। এই হার ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রথম ধাপে ৪৩.৩২ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৪১ দশমিক ২৫ ও তৃতীয় ধাপে ৪১ দশমিক ৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন ৪৭৮০ জন : এই প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান এক হাজার ২৭৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান দুই হাজার ৫১ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এক হাজার ৪৫৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বিনা ভোটে জয়ের রেকর্ড : পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এ নির্বাচনে ভোট ছাড়াই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন ২২৩ জন জনপ্রতিনিধি।

খবরটি পড়া হয়েছে :10বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *