সিলেটে স্মৃতিসৌধ নির্মাণে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও লেটার

সিলেটে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবির সাথে একাত্মতা জানিয়ে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন গণপূর্তমন্ত্রীকে একটি ডিও লেটার বা পত্র দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ উল্লেখ করে ওই পত্রে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাক বাহিনীর মর্টারের গোলার আঘাতে সিলেটের হাফিজ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এর আশেপাশে একটি স্মৃতিসৌধ বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে সিলেট সিটি করপোরেশনের বেদখল হয়ে থাকা ভূমিকে ব্যবহারের জন্যে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের ব্যক্তিগত সহকারী জাবেদ সিরাজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্মৃতিসৌধ নির্মাণের এ উদ্যোগের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সিলেটের বিশিষ্টজনেরা।

সিলেট সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত জানান, সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। সিলেটে বিভিন্ন জাতীয় দিবসকে ঘিরে যত কর্মসূচি হয় তার সবই শহীদ মিনার কেন্দ্রিক। একটি স্মৃতিসৌধ নির্মিত হলে আমরা নির্দিষ্ট দিবসে নির্দিষ্ট স্থানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের সুযোগ পেতাম। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের অবদান বিশাল। আর তাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মরণে একটি সৌধ নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি এবার আর কাগজপত্রে নয় এই দাবির বাস্তব রূপ আমরা দেখতে পারবো।

তবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে স্থান নির্বাচন একটি বড় অন্তরায় হতে পারে বলে মনে করেন সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভবতোষ রায় বর্মণ।

তিনি বলেন, সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ হলে তা হবে আমাদের জন্য গর্বের। আমরা দীর্ঘদিন থেকেই এই দাবি উত্থাপন করে আসছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই উদ্যোগ নি:সন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। আশা করা যায় অচিরেই তা বাস্তবায়িত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের এই দাবির প্রেক্ষিতে একাধিকবার উদ্যোগী হলেও স্থান নির্ধারণ করতে না পারায় আর হয়ে ওঠেনি। স্মৃতিসৌধটি যেন শহরের প্রাণকেন্দ্রে নির্মাণ করা হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য তিনি পুরাতন কারা ভবনের স্থানকে নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত মনে করেন।

খবরটি পড়া হয়েছে :10বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *