মৌলভীবাজারে বিদ্রোহীদের ‘ধাক্কায়’ নৌকার ভরাডুবি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ::মৌলভীবাজার জেলার ৭ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এই ভোটে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী ৭ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ২ জন জয় লাভ করেছেন। আর একজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় প্রার্থীদের এমন ভরডুবির কারণ একটাই- বিদ্রোহ। দলে থেকে দলের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের জয়জয়কআর দেখা গেছে মৌলভীবাজারে।

উপজেলা নির্বাচনে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়নি। আ.লীগ মনোনিত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। আর ভাইস-চেয়ারম্যান পদে পূর্বেও দুজনই নির্বাচিত হয়েছে। তাই এই উপজেলায় ভোটের আমেজ নেই।

তবে ভোটের লড়াই জমেছিলো রাজনগর উপজেলায়। আ.লীগের দলীয় প্রার্থী হলেন আছকির খান। ফলের সমীকরণে তার অবস্থান ৩ এ নেমেছে। দলের বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা মিছবাহুদ্দোজা (ভেলাই) আর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. শাহজাহান খান। শাহজাহান এবার খেলা দেখিয়ে দিয়েছেন। বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। যদিও ভোটের আগে তার পক্ষে জনস্রোত সৃষ্টি হয়েছে। আর আ.লীগের প্রার্থী গিয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে।

শ্রীমঙ্গলে আর কমলগঞ্জে বর্তমান দুই চেয়ারম্যান পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন কমলগঞ্জে অধ্যাপক রফিকুর রহমান ও শ্রীমঙ্গলে রণধির কুমার দেব। তারা উভয়েই আ.লীগের দলীয় প্রার্থী। এবং বিদ্রোহীরা তাদের দমিয়ে রাখতে পারেন নি। বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছে।

তবে হাকালুকির দেশ কুলাউড়া, জুড়ি আর বড়লেখায় নৌকার ভরডুবি। এই তিন উপজেলায় রয়েছেন একাধিক বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী। এখন ফলাফলের সমীকরণে অনেক আ.লীগের দলীয় প্রার্থীর অবস্থান একেবারেই তৃতীয় অবস্থানে। কুলাউড়া উপজেলায় আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যক্ষ একে এম শফি আহমদ সলমান (স্বতন্ত্র) বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী হচ্ছেন আ.লীগের  প্রার্থী আসম কামরুল ইসলাম।

জুড়ীতে হয়েছে বিদ্রোহী বিদ্রোহী লড়াই। যার করণে একেবারেই শুন্যে নেমেছেন আ.লীগের প্রার্থী গুলশান আরা মিলি। ভোটও পয়েছেন অল্প। শেষমেষ দেবরের কাছে হার মানলেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এম এ মুহিদ ফারুক। ফারুক জুড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ মুমীত আসুকের ছোট ভাই। তিনি হল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। অন্যদিকে, মিলি আসুকের স্ত্রী।

বড়লেখা উপজেলায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সুয়েব আহমদ। তিনি দলীয় মনোনয়ন লাভের জন্য অনেক প্রচেষ্টা করেছেন। রাজপথে নেমেছেন কিন্তু পানানি। তাতে কী? দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্বে দাড়িয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

খবরটি পড়া হয়েছে :9বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *