৭৮ উপজেলার ভোট গ্রহণ শেষ, অপেক্ষা ফলাফলের

বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের ১৭টিসহ ৭৮ট উপজেলায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এবার অপেক্ষা কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ভোট গণনা।

রোববার (১০ মার্চ) সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলে।

এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও জাতীয় নির্বাচনের দুই মাসের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলো এই নির্বাচন বর্জন করেছে।

ফলে এবারের নির্বাচন হচ্ছে অনেকটা একতরফা। ইতিমধ্যে প্রথম ধাপের ১৫টি উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যারা আওয়ামী লীগেরই নেতা। আর বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচন বর্জন করলেও দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।

জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা সমালোচিত হলেও উপজেলা নির্বাচন ঘিরে শেষ মুহূর্তে সংস্থাটি কিছুটা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব হবে না মনে করে তিনটি উপজেলার নির্বাচন শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেছে ইসি। এর আগে ইসি নয়জন সাংসদকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। এ ছাড়া কয়েকটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) বদলি করা হয়।

এবার সারা দেশে পাঁচটি ধাপে ৪৮০টি উপজেলায় নির্বাচন হবে। প্রথম ধাপে ৮৭টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

শনিবার ইসি জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে ইসি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, নেত্রকোনার পূর্বধলা ও লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভোট স্থগিত করেছে। নাটোর সদর এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সেখানে ভোট হচ্ছে না। আর তিনটি উপজেলার (নীলফামারীর সদর ও জলঢাকা এবং রাজশাহীর পবা) ভোট আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়েছে। এই নয়টি উপজেলায় আজ ভোট হচ্ছে না। বাকি ৭৮টি উপজেলা পরিষদে আজ ভোট নেওয়া হচ্ছে।

ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের এই ৭৮টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৮৪৭টি। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ২০৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৮৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ২৪৯ জন। প্রথম ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বলেন, ভোটাররা যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবরটি পড়া হয়েছে :4বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *