সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে ভোটারদের উপস্থিতি কম

সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের ১৭টি উপজেলায় রোববার সকাল থেকে ভোট গ্রহণ চলছে। অন্যান্যবারের তুলনায় এবারের উপজেলা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে।

রোববার (১০ মার্চ) সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। বিকেল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলবে।

বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে এ ভোট গ্রহণ। বিভিন্ন উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদের ভিত্তিতে দেখা যায় ভোটারদের উপস্থিতি সব জায়গাতেই কম।

মাধবপুর: উপজেলার ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম। এখন পর্যন্ত কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি।

নবীগঞ্জ: ভোটারদের উপস্থিতি কম। সকাল ১০টা পর্যন্ত অনেক কেন্দ্রে ভোটই পড়েনি। এক কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় শুধু নারী ভোটার, পুরুষ ভোটার নেই। তবে কোন কেন্দ্রে গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।

বানিয়াচং: উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে স্ট্যাম্প-প্যাডের কালির সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ভোটারদের উপস্থিতিও কম। উপজেলার শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইকরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পরই শাহপুর কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ রয়েছে।

আজমিরীগঞ্জ: ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ: বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে শাল্লা ও ধর্মপাশার উপজেলার তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। অন্যান্য কেন্দ্রে কোন গোলযোগ সৃষ্টি না হলেও ভোটারদের উপস্থিতি কম।

ছাতক: সকাল থেকে উপজেলার প্রায় ১৫টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় ভোটার উপস্থিতি কম। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কিছুটা উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

হবিগঞ্জের আটটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২৯, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৪ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সুনামগঞ্জে এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২৮ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৭ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৫ জন প্রার্থীসহ ১৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণের জন্য পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। নির্বাচন পরিচালনার জন্য মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত, জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসের নেতৃত্বে তদারকি টিম মাঠে কাজ করছে।

এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও জাতীয় নির্বাচনের দুই মাসের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলো এই নির্বাচন বর্জন করেছে।

ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের এই ৭৮টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৮৪৭টি। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ২০৭ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৮৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ২৪৯ জন। প্রথম ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

খবরটি পড়া হয়েছে :2বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *