প্রবাসীদের সিলেটে বিনিয়োগের আহবান

লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেট্স এর স্পীকার, কাউন্সিলর এম আয়াছ মিয়া বলেছেন, টাওয়ার হ্যামলেট্স এর সাথে সিলেটের আত্মার সম্পর্ক ও হৃদয়ের বন্ধন রয়েছে। সিলেটের উন্নয়নে অবদান এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় শরিক হতে আমরা প্রতিনিয়ত তাগিদ অনুভব করি। তিনি বলেন, বৃটেনে আমরা অনেক ভালো অবস্থানে আছি এবং সেখানে বাংলাদেশীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেম্বার কনফারেন্স হলে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। সিলেট চেম্বারের উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ।

প্রধান অতিথি বৃটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মকান্ডের উদাহরণ দিয়ে বলেন, টাওয়ার হ্যামলেট্স এলাকায় বাংলাদেশীদের সংখ্যা ৩২ শতাংশ। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই সিলেটী। যারা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রবাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল উল্লেখ করে স্পীকার আয়াছ মিয়া প্রবাসীদেরকে সিলেটে বিনিয়োগের পূর্বে সিলেট চেম্বারের সাথে আলোচনাক্রমে বিনিয়োগের আহবান জানান। তিনি প্রবাসীদের ট্যাক্স রিটার্ন সহজ করার জন্য চেম্বার সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সিলেট চেম্বারের কর্মান্ডের ভূঁয়সী প্রশংসা করে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি সিলেট চেম্বার সামাজিক কর্মকান্ডেও অবদান রেখে যাচ্ছে। তিনি সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে খন্দকার সিপার আহমদ-কে এফবিসিসিআই এর পরিচালক মনোনীত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান।

প্রধান অতিথি বলেন, বৃটেনের মূলধারার রাজনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে উচ্চপদে স্থান দখল করে নিয়েছেন বাঙালীরা। তিনি বলেন, আমরা সিলেটের সাথে সম্পর্কের আরো উন্নয়ন করতে চাই। সেই লক্ষ্যে টিউনিং লিংক প্রকল্পটি আবার চালু করতে চেষ্টা চালাচ্ছি। এটা চালু হলে সিলেট সিটির নাগরিকরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশগত বিভিন্ন সুবিধা পাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, স্পীকার হিসেবে টাওয়ার হ্যামলেট্স-কে প্রমোট করার দায়িত্ব আমার। এর সাথে আমি বাংলা টাউন এবং বাংলা কমিউনিটিকে প্রমোট করবো। বাংলাদেশের প্রতি বর্তমান প্রজন্মের আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তারা বাংলাদেশ ভ্রমণে এবং বিনিয়োগেও আগামীতে এগিয়ে আসবে।

সভাপতির বক্তব্যে খন্দকার সিপার আহমদ প্রবাসীদের ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে বিনিয়োগ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, সিলেট চেম্বার প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির ও ট্যাক্স হলিডে’র জন্য সচেষ্ট রয়েছে। তিনি প্রবাসীদেরকে বিনিয়োগের আগে সিলেট চেম্বারের প্রবাসী সেলের সাথে যোগাযোগ এবং যাদের অভিজ্ঞতা আছে তাদের সাথে মিলে বিনিয়োগের আহবান জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে আইটি সেক্টর সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বর্তমান সরকারের ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কনসর্ট অফ স্পীকার, এনআরবি স্টিয়ারিং কমিটি আবুল হোসেন, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য এম রহমত আলী, গোয়ালাবাজারস্থ টেম্স টাওয়ারের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক, আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলীমুল এহছান চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের সহ সভাপতি মোঃ এমদাদ হোসেন, পরিচালক পিন্টু চক্রবর্তী, এহতেশামুল হক চৌধুরী, ওকাস সভাপতি খালেদ আহমদ, চ্যানেল এস’র সিলেট প্রতিনিধি মঈন উদ্দিন মঞ্জু। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক মোঃ সাহিদুর রহমান, মুশফিক জায়গীরদার, আমিরুজ্জামান চৌধুরী, মুকির হোসেন চৌধুরী, আব্দুর রহমান, চন্দন সাহা, মোঃ আতিক হোসেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিলেট চেম্বারের সদস্য শফিকুল ইসলাম এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।

খবরটি পড়া হয়েছে :5বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *