এএসসির ফল পাল্টে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে অর্থ আদায়, গ্রেপ্তার ৪

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়া এবং ফল পরিবর্তন করে দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) একটি দল।

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আব্দুল বাতেন জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম (২০), মো. শামীম আহমেদ, সোহেল রানা (১৭) ও নবীন আলী (২২)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার চারজন এসএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে বিক্রি ও শিক্ষাবোর্ডের সার্ভার হ্যাক করে ফল পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দিত।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা বাতেন বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি বলেন, আসামিরা ফেসবুক গ্রুপ খুলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে যে, তারা এসএসসির ফলাফল পরিবর্তন করে দেবে। তাদের আইটি বিশেষজ্ঞ দল রয়েছে যারা এসএসসির রেজাল্ট শিট তৈরির সফটওয়্যারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে রেজাল্ট পরিবর্তন করতে পারবে। তারা শিক্ষার্থীদের ‘এ গ্রেড’ পেলে সেটাকে ‘এ প্লাস’ এবং ‘বি গ্রেড’ পেলে সেটাকে ‘এ গ্রেড’ করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে টাকা আদায় করছিল।

ফলাফল পরিবর্তনের জন্য চক্রটি এইরমধ্যে শিক্ষার্থীদের কারো কাছ থেকে ১৫ হাজার, কারো কারো কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, আটক ফাহিম দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ইমো, ইউটিউব এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এসএসসিসহ বিভিন্ন চাকরি, মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছিল। ২০১৮ সালে একই অপরাধে র‌্যাবের হাতে সে একবার গ্রেফতার হয়। ৬ মাস কারাগারে থাকার পর বের হয়ে আবারও সে একই কাজ শুরু করে।

ফাহিম এসএসসি অল বোর্ড, এসএসসি অল বোর্ড সেকেন্ড, রেজাল্ট চেঞ্জ বিডি গ্রুপ খুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে আসছিল।

আটক শামীম ও সোহেল রানা ২০১৮ সাল থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। নবীন আলী পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ভুয়া প্রশ্ন বিক্রি করে ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করতো।

আব্দুল বাতেন বলেন, এই চক্রটি ধরা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতা প্রয়োজন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা না বুঝে, ভালো রেজাল্টের স্বপ্ন থেকে, কম পড়াশোনা করে সহজে ভালো রেজাল্ট করার জন্য এসব বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত হচ্ছে।

খবরটি পড়া হয়েছে :9বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *