আরিফদের আবদার উপেক্ষিত, মুক্তাদিরেই ভরসা বিএনপির

সিলেট-১ আসনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে মনোনয়ন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৫১ বিএনপি নেতা। ইনাম আহমদ চৌধুরীকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। তবে তাদের দাবি উপেক্ষা করেই খন্দকার মুক্তাদিরের উপরই ভরসা রাখলো বিএনপি।

শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট-১ আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। মুক্তাদির এই আসনের সাবেক সাংসদ খন্দকার আব্দুল মালিকের ছেলে।

এর আগে খন্দকার মুক্তাদিরের সাথে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরীকেও মনোনয়ন দিয়েছিলো বিএনপি। মনোনয়ন পেয়ে সিলেটে সংবাদ সম্মেলনসহ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বিভিন্ন কর্মসূচীও পালন করেন মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রবীণ এ নেতা।  শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির প্রবীণ এই নেতাকে বাদ দিয়ে মুক্তাদিরের হাতেই তুলে দেওয়া হয় ধানের শীষ প্রতীক।

এদিকে, দুই প্রার্থী নিয়ে বিভক্তি দেখা দেয় সিলেট বিএনপিতে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এই বিভক্তি থেকে নিজেদের দূরে রাখলেও শুক্রবার অনেকটা আকষ্মিকভাবে ইনাম আহমদ চৌধুরীর পক্ষে অবস্থান নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য, সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনিসহ ৫১জন বিএনপি নেতা মুক্তাদিরের বদলে ইনাম আহমদ চৌধুরীকে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের কাছে লিখিত আবেদন জানান।

গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে অনেকটা বৈরি পরিবেশে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন আরিফুল হক। এই বিজয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় আরিফের। তবে এবার আর টিকলো না আরিফুল হকদের আবদার।

প্রার্থী হওয়ার বদলে ইনাম আহমদ চৌধুরী বিএনপির নির্বাচন পরিচালানা কমিটির দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গেছে।

তবে এই বিরোধ মিটিয়ে মুক্তাদিরের পক্ষে সিলেট বিএনপি কতটুকু ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে এ নিয়ে প্রশ্ন আছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

এই সন্দেহ থেকে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও সিটি কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম তাঁর ফেসবুকে আরিফুল হক চৌধুরীকে ইঙ্গীত করে লেখেন-

মাননীয় মেয়র, আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-আমি আপনার পরিষদের একজন সদস্য, আপনি জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচিত মেয়র। আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের বিষয় থাকতেই পারে কিন্তু আপনি একজন দায়িত্ববান নেতা হিসাবে আমাদের তৃণমূল নেতৃবৃন্দের মনের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে সিলেট এক আসনে ধানের শীষের বিজয়’কে ত্বরান্বিত করার অগ্রযাত্রায় সামিল হবেন বলে আমি আশাবাদী। মনে রাখতে হবে বহু প্রতিকূলতার মধ্যে বিএনপির তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ জীবন বাজি রেখে আপনাকে সিটি নির্বাচনে বিজয়ী করতে সহযোগিতা করেছিল, এখন সময় এসেছে আপনি দলকে প্রতিদানে কিছু দেওয়ার। ধন্যবাদ আপনাকে।

খবরটি পড়া হয়েছে :118বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *