হংসবলাকার ‘পাইলট’ যখন প্রধানমন্ত্রী

বিমানের বহরে যুক্ত হওয়া সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ফ্লাইড ড্রিমলাইনারে পাইলটের আসনে বসা শেখ হাসিনা। না, তিনি বিমান চালাতে জানেন না। বিমানটি উদ্বোধনের জন্য গিয়ে সেখানে বসেন শখ করে। 

মুহূর্তেই ক্লিক ক্যামেরায়, ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। আর হয়ে যায় ভাইরাল।
বোয়িং কোম্পানির তৈরি সেভেন এইট সেভেন- এইট ড্রিমলাইনারটি গতকাল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর নাম তিনি নিজেই দিয়েছেন; হংসবলাকা। এটির বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে।

বিমানটি উদ্বোধনের জন্য শেখ হাসিনা যান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ২৭১ আসনের এ উড়োজাহাজটিতে উঠে ককপিটসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তিনি।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এএম মোসাদ্দিক আহমেদও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর পর ভিভিআইপি টার্মিনালের টারমার্কে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় মোনাজাত করা হয়।
চারটি ড্রিমলাইনারসহ ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে দুই দশমিক এক বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা।

সে অনুসারে চারটি বোয়িং সেভেন সেভেন সেভেন-থ্রি জিরো জিরো ইআর এবং দুটি সেভেন থ্রি সেভেন-এইট জিরো জিরো উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে বোয়িং। ছয়টি বিমান আসার পর গত ১৯ আগস্ট ঢাকায় আসে বিমানের প্রথম ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’। সেটিও উদ্বোধন এবং নামকরণও করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর গত ২৯ নভেম্বর হংসবলাকার মালিকানা হস্তান্তর করে বোয়িং। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে একটানা উড়ে গত ১ ডিসেম্বর রাতে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছে এটি।

দুটি ড্রিমলাইনারসহ বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টিতে। ‘হংস বলাকা’ দিয়ে ঢাকা-লন্ডন রুটে সপ্তাহে ছয়টি, ঢাকা-দাম্মাম রুটে সপ্তাহে চারটি এবং ঢাকা-ব্যাংকক রুটে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ‘হংসবলাকা’ পরিদর্শনের সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ফারুক খান এবং বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ‘গাঙচিল’ ও ‘রাজহংস’ নামের আরও দুটি ড্রিমলাইনার ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আসবে বলে বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ড্রিমলাইনারে আসন সংখ্যা মোট ২৭১টি। এর মধ্যে ২৪টি বিজনেস ক্লাস আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীদের আরামদায়কভাবে বিশ্রামে সহায়ক।

বিমান জানিয়েছে, ড্রিমলাইনার ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার বেগে টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। এই আকাশযান চালাতে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগে। অত্যাধুনিক বোয়িং সেভেন এইট সেভেন- এইট ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। এছাড়া মোবাইল ফোনে রোমিং সুবিধা থাকলে আকাশে উড্ডয়নের সময় কল করা যাবে। এজন্য ২৫টি স্যাটেলাইটের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

উড়োজাহাজটির ইঞ্জিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই)। উড়োজাহাজটির শব্দ কমাতে ইঞ্জিনের সঙ্গে শেভরন প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে।

উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ হবে ইলেকট্রিক ফ্লাইট সিস্টেমের মাধ্যমে। কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় এই উড়োজাহাজটি ওজনে হালকা। ভূমি থেকে উড়োজাহাজটির উচ্চতা ৫৬ ফুট। দুটি পাখার আয়তন ১৯৭ ফুট। এর মোট ওজন এক লাখ ১৭ হাজার ৬১৭ কিলোগ্রাম, যা ২৯টি হাতির সমান! এর ককপিট থেকে টেল (লেজ) পর্যন্ত ২৩ লাখ যন্ত্রাংশ রয়েছে।

খবরটি পড়া হয়েছে :3বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *