ভারত মহাসাগরে চীনের ব্যাপক উপস্থিতি, উদ্বেগে নয়াদিল্লি

পাকিস্তানে করিডরের কাজ প্রায় শেষ। এ বার মিয়ানমারের বন্দর তৈরির পথে চীন। চতুর্দিক দিয়ে ভারতকে ঘিরে ফেলাই তাদের লক্ষ্য। তবে ভারত মহাসাগরেই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় তারা। লাগাতার সেখানে ডুবোজাহাজ পাঠিয়ে চলেছে বেইজিং। যার মধ্যে রয়েছে পরমাণু শক্তি চালিত আক্রমণকারী ডুবোজাহাজও। মাঝে মধ্যেই কলম্বো এবং করাচি হয়ে ভারতীয় জলসীমার কাছাকাছি এসে পড়ে সেগুলি। তাদের কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ বেড়েছে নয়াদিল্লির। 

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পরিস্থিতির দিকে লাগাতার নজর রেখেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে উপকূল রক্ষীবাহিনীও। গত পাঁচ বছর ধরে ভারত মহাসাগরে এমন কর্মকাণ্ড চলছে বলে সম্প্রতি ভারতীয় গোয়েন্দাদের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়। সোমবার বিষয়টি সামনে এনেছে একটি ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম।

আনন্দবাজার জানায়, গোয়েন্দাদের ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা। তাতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভারত মহাসাগরে ৮টি ডুবোজাহাজ পাঠিয়েছে চীন। যার মধ্যে পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজও ছিল। কলম্বো এবং করাচি হয়ে ভারতীয় জলসীমার কাছে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে সেগুলিকে। এক একটি ডুবোজাহাজ প্রায় একমাস করে কাটিয়ে গেছে। নজরদারি এড়াতে বেশকিছু কৌশলও অবলম্বন করতে দেখা গেছে তাদের। একের পর এক পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন ডুবোজাহাজ পাঠায় না বেইজিং। বরং পর্যায়ক্রমে একবার সাধারণ জাহাজ আর একবার পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন ডুবোজাহাজ, এ ভাবে বদল ঘটাতে থাকে তারা।

ভারত মহাসাগরে চীনের উপস্থিতির কথা মেনে নিয়েছেন ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লানবা।

তিনি জানান, ‘অক্টোবরেই টানা একমাস ধরে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছিল একটি চীনা ডুবোজাহাজ। কখনও আবার এমন হয়েছে যে, ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন জায়গায় একই সময়ে একাধিক জাহাজকে ঘুরে বেড়াতে করতে দেখা গেছে। এডেন উপসাগরে একবার বেইজিংয়ের জলদস্যু প্রতিরোধ বাহিনীর তিনটি জাহাজকে একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।’

গত বছরই ভারত মহাসাগরে চীনা নৌবাহিনীর ১২টি বহর দেখা গিয়েছিল বলে নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে। যার মধ্যে ছিল তৃতীয় শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী লুয়াং জাহাজ, ডুবোজাহাজে সরঞ্জাম সরবরহকারী জাহাজ চেংমিংদও। পরে সেটিকে আবার করাচি বন্দরেও দেখা যায়। এ দিকে গত কয়েক বছরে করাচি বন্দরে মোতায়েন চীনা নৌবহরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত মহাসাগরে তাদের সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর তাই নজর রাখছে ভারত।

চীনা বাহিনী এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাশালী বাহিনী। বিশ্বমানের প্রযু্ক্তি রয়েছে তাদের হাতে। তার ওপর আবার পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। দুই দেশ মিলে আচমকা চড়াও হলে ভারতীয় নৌবাহিনী কি তা সামাল দিতে পারবে? সেই প্রশ্নের জবাবে অ্যাডমিরাল লানবা বলেন, ‘ভারত মহাসাগর নিয়েই যত দুশ্চিন্তা আমাদের। তবে ২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের হাতে ২০০ রণতরী এসে যাবে। বিমানের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০। তখন আমরাও বিশ্বমানের বাহিনী হয়ে দাঁড়াব।’

নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে সম্প্রতি ৫৬টি যুদ্ধজাহাজ এবং ছয়টি ডুবোজাহাজ কিনতে রাজি হয়েছে ভারত সরকার। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতের প্রথম বিমানবাহী রণতরী ‘বিক্রান্ত’-এর নির্মাণও প্রায় শেষ হয়ে হয়ে এসেছে। পরীক্ষা করে দেখতে ২০২০ সালেই সেটিকে পানিতে নামানো হতে পারে।

খবরটি পড়া হয়েছে :6বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *