খালেদাকে নির্বোধ বললেন মুহিত

খালেদা জিয়া ‘নির্বোধের’ মত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপিকে ‘নষ্ট’ করে ফেলেছেন মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এর সুবিধা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পাবে।  

শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘শেখ হাসিনা: দুর্গম পথযাত্রী’ শিরোনামে একটি প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে এসে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগ নেতা মুহিত বলেন, “তিনি নির্বোধের মত নির্বাচন করলেন না। নির্বাচন করলে অবশ্যই একটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হত। তিনি হেলায় হারালেন। শুধু হারালেন না, নির্বাচনে জিততে টিটতে না পেরে তিনি তার পার্টিটাকে বিনষ্ট করে দিয়েছেন।”

তাতে আওয়ামী লীগেরই যে সুবিধা হয়েছে, সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে আমরা তা গ্রহণ করব। আমরা অবশ্যই জিতব।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাকে নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনীতে এসে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার স্মৃতি স্মরণ করেন এইচ এম এরশাদের সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মুহিত।  

শেখ হাসিনার শাসনামলে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার নিজস্ব ধারণা…. শেখ হাসিনার সরকার দুটি টার্মে বাংলাদেশকে যা দিতে পেরেছে, বাংলাদেশের জনগণ তা মূল্যায়ন করবে। সেই সাথে তারা শেখ হাসিনাকে আবার নির্বাচিত করবে।”

আরও ৫ বছর শেখ হাসিনা এ দেশের নেতৃত্বে থাকলে বাংলাদেশ ‘অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে’ বলেও মুহিতের বিশ্বাস।

তিনি বলেন, “এ গতি কেউ কখনো রোধ করতে পারবে না। ২০৪১ সালে একটা উন্নত দেশ হিসেবে অবশ্যই সারা বিশ্বে পরিচিত হব।”

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপি বা জালিয়াতির তেমন কোনো সুযোগ নেই দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো আসনে যদি ‘শক্তিশালী’ কোনো প্রার্থী সব কেন্দ্র দখল করে ফেলে, কেবল তাহলেই ‘জালিয়াতি’ সম্ভব।

নির্বাচন সামনে রেখে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী-কামাল হোসেনদের ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায়’ মিলে সরকারের পতন ঘটনোর আশায় বিএনপি নেতারা যেসব মন্তব্য করছেন, সে বিষয়েও কথা বলেন মুহিত।

“ফখরুল সাহেব এটা সেটা বলেন। এগুলো আবোলতাবোল বক্তব্য। তিনিও জানেন, এগুলোর কোনো উদ্দেশ্য নেই। এটা একটা ক্লাইমেক্স সৃষ্টি করার জন্য বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তবে তাতে একটা নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া, প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটা আশা-আকাঙ্ক্ষা জাগে।”

‘শেখ হাসিনা: দুর্গম পথযাত্রী’ প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে আবদুল গাফফার চৌধুরীর চিত্রনাট্য অবলম্বনে। পরিচালনা করেছেন গোলাম রব্বানী; উপদেষ্টা পরিচালক হিসেবে ছিলেন নাসিরউদ্দীন ইউসুফ।

শেখ হাসিনার শৈশব থেকে বর্তমান সময়ের রাজনীতির নানা পটপরিবর্তনের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্রে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর নানা উদ্যোগ, পঁচাত্তরের ঘটনাপ্রবাহ, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসা, এবং নির্বাচন তিনি বিভিন্ন তথ্য সেখানে তুলে ধরা হয়েছে।

খবরটি পড়া হয়েছে :31বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *