গ্রেনেড হামলা আওয়ামী রাজনীতির একটি চালচতুড়ি : রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলাকে প্রহেলিকা বা ধাঁধা আখ্যা দিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। বলেছেন, এটি আওয়ামী রাজনীতির কুটিল হিসাব। সে সময় ক্ষমতাসীন বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য দেশি-বিদেশি চক্রান্ত হিসেবেও দেখছেন তিনি।

রবিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। এ সময় তিনি নানা বিষয়ের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার এই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

আগামী ১০ অক্টোবর দেশ কাঁপানো এই মামলার রায় ঘোষণা হবে। এই মামলা একই সঙ্গে বিএনপির জন্য উদ্বেগ এবং বিব্রতের কারণ।

এই মামলায় আসামিদের মধ্যে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক। এদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

নৃশংস এই হামলায় ২৩ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয় কয়েকশ নেতা-কর্মী। আর এই হামলার পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা আছে। সে সময় সরকার অপরাধীদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ আছে। হামলাকারীদেরকে বাঁচিয়ে জজ মিয়া নামে নিরীহ একজনকে ফাঁসানোর অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।

আবার হামলার পর আলামত নষ্ট করা, বিচারিক তদন্তের নামে আজগুবি তথ্য প্রচার হয়েছিল সে সময়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অধিকতর তদন্তে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু, তার ভাই তাজউদ্দিন, জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২২ জনের বিচার শুরু হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আবার তদন্ত করে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

হামলার পর বিএনপি নেতারা এমন দাবিও করেছিলেন, শেখ হাসিনা তার ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে নাটক সাজিয়েছেন।

রিজভী তার সংবাদ সম্মেলনেও পরোক্ষভাবে পুরো বিষয়টির দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপান। বলেন, ‘২১ আগস্ট বোমা হামলার পুরো বিষয়টাই একটি প্রহেলিকা (ধাঁধা)। আওয়ামী রাজনীতির কুটিল পাটিগণিত। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করার দেশীয় ও বৈদেশিক চক্রান্তের বিপজ্জনক ব্লুপ্রিন্ট।’

‘বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার নানাবিধ ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলায় সরকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে আইন আদালতকে। কারণ আইন আদালত এখন সম্পূর্ণভাবে সরকারের হাতের মুঠোয়।

‘শুধু প্রতিহিংসা পূরণের জন্য টার্গেট করেই সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এক্ষেত্রে বেপরোয়া ক্ষমতার আস্ফালনে আইন আদালতকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিহনাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন বলেও দাবি করেন রিজভী। বলেন, ‘এটি করতে গিয়ে বিশ্ব দরবারে শেখ হাসিনা কলঙ্কিত হয়েছেন। এই ঘটনা বিচার বিভাগের ওপর ব্যক্তি শেখ হাসিনার ভয়ঙ্কর আক্রমণ। বিচার বিভাগের ওপর আধিপত্য বিস্তারই এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য।’

খবরটি পড়া হয়েছে :12বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *