শ্রীমঙ্গলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে আবর্জনা

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :: শ্রীমঙ্গলের স্বনামধন্য তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মুখোমুখী পৌরসভার একমাত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্তুপ। আর এই স্তুপের ময়লা আবর্জনার প্রচন্ড দূর্গন্ধে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিসহ নানাবিধ সমস্যায় হাজার হাজার কোমলমতী শিক্ষার্থী পথচারীসহ এলাকাবাসী। আর এই আবর্জনার স্তুপের কারণে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিঘ্নিত হচ্ছে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর লেখাপড়া।

শ্রীমঙ্গলে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত কলেজ রোড এলাকা। সেখানে রয়েছে পৌরসভার প্রায় এক একর পতিত জায়গা। শহরের সব ময়লা-আবর্জনা পৌরসভার পরিছন্ন কর্মীরা পৌরসভার গাড়ি দিয়ে প্রতিনিয়ত ফেলছে এখানে। আর প্রতিদিন এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে এই জায়গায় গড়ে উঠেছে বিশাল আবর্জনার স্তুপ। সেই স্তুপ থেকে আসা দুর্গন্ধে অতিষ্ট স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ ও দি বাডস রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং পশ্চিম পাশে আছে গাউছিয়া শফিকিয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসা নামে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে প্রায় ৫ হাজার, দি বার্ডস রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১ হাজার ২০০ ও গাউছিয়া শফিকিয়া সুন্নীয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন স্কুল কলেজের আসা যাওয়ার পথে নাকমুখ চেপেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে হচ্ছে তাদের। শুধু তাই নয় প্রতিটি শ্রেনী কক্ষের ভিতরেও পৌঁছে যাচ্ছে ময়লার আবর্জনার দূর্গন্ধ। ফলে প্রচন্ড দূর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সাথে সাথে দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন অবিভাবকসহ পথচারীরা। অবিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই জায়গা অতিক্রম করার সময় প্রচন্ড দূর্গন্ধে নাক চেপে ধরে যেতে হয়। প্রায়শই অতিরিক্ত দূর্গন্ধের কারনে ছোট ছোট ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এদিকে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই প্রচন্ড দূর্গন্ধ চর্তুদিকে ছড়িয়ে পড়ায় দূভোর্গের শিকার হচ্ছেন পার্শবর্তী এলাকাবাসীও।

শিক্ষার্থীরা জানায়, দুর্গন্ধের কারণে স্কুল-কলেজে যাতায়াত যেমন দুষ্কর তার চেয়ে কলেজে ক্লাস করাটা জটিল হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের নিকট শিক্ষার্থীদের দাবী অতি শীঘ্রই যেন কলেজের সামনে থেকে এই ময়লার স্তুপ অপসারন করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আর ময়লা স্তুপের আশেপাশের বাসিন্দারা বলেন, জোরে বাতাস বইতে শুরু করলে ঘরের ভেতর পর্যন্ত গিয়ে গন্ধ ঢোকে। তখন দম নেওয়া যায় না। কিন্তু কিছু করার নাই। ঘরবাড়ি ছেড়ে তো যাওয়া যায় না, তাই থাকি।

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল মালেক বলেন অতিরিক্ত দুর্গন্ধের জন্য শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অসুবিধা হয়। পরীক্ষার সময় দুর্গন্ধের জন্য পরীক্ষা দিতে তাদের জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ মারাত্মক দূর্গন্ধের কারণে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিউমোনিয়া ও বয়োবৃদ্ধ লোকজনের মধ্যে শ্বাসকষ্ঠ জনিত রোগব্যাধি হতে পারে।

দি বার্ডস্ মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ লে. কমান্ডার জাফর আহমদ (অব.) অভিযোগ করে বলেন, পৌরকর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানোর পরেও কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পৌরসভার কাজ ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা। সকল সমস্যা দুর করা । কিন্তু তারা উল্টো শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগে ফেলছেন।

এ ব্যপারে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মহসীন মিয়া মধু বলেন ময়লা ফেলার স্থানটি স্থানান্তরিত করার জন্য ২০১২ সালে নতুন আরেকটি জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। টাকাও জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গেজেট হওয়ার আগে জমি নিয়ে একটি মামলা হওয়ায় স্থানান্তরের কাজটি আটকে গেছে। মামলা শেষ হলে খুব শীগ্রই স্থানান্তর করা হবে।

বছরের পর বছর এখানকার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। দূর্গন্ধে পথচারীদের দূর্ভোগের পাশাপাশি রয়েছে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা। এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকার সচেতন মহল।

খবরটি পড়া হয়েছে :30বার!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *